Sunday, August 15, 2010

জটিল জটিল জটিলা

হলুদ পানিতে স্নান করেছে উপত্যাকা। আমগাছে আজ মেরুন পাতা, শীতল নাভির মত, চারপাশে আমরুৎ কান্ড, ভারী কোমল।একটা হরেকরকম্বা পাখি, পিচ্চি, ভায়োলিনের মত ডানা কাৎ করে উড়ে বেড়াচ্ছে জানালা বরাবর।

তব্যে?

আমার জানালা। আমার জানালা, আমার রৌদ্রাহত জনালা, সে ধর্ম পুস্তকের মত ভারী আর সবুজ। কাঁচের এপারেও এখন জটিল জলপাই রোদ, মৃত প্রজাপতির মত পড়ে কিছু আসবাবপত্র ও আমি।

একটা হৃৎপিন্ডের মত গিটার দুলছে রবী থাকরের (ঠাকুর, ঠাকুর, ঠাকুর পাপ নিয়ো না যেন) গানে, পেন্ডুলামের ইস্টাইলে দেবব্রত। এই গরমে বর্ষার গান ঘর থেকে বেরিয়ে পিছলে চলে যাচ্ছে আমপাতার গায়ে, সে ভিজেও যায় নিমেষে।

হিসাবভক্ষক

কড়া সেক্স,হিসাবে টুইংকেল টুইংকেল ফাইভষ্টার বেদনাকুকুরগুলো বামদিক ঘেসে আর এক গন্ধবেদনা ছাতিম গাছ ঠিক মাথার উপর রূদ্রাক্ষ নিয়ে আকাশে তারা সাজাচ্ছে ঝিকিমিকি ঝিকিমিকি গান, আর আমি লিখছি পোড়া অক্ষরমালা নিদারুন ফন্টে বকুলফুলের মত, সব ফাঁক ফাঁক; এবার এইটুকু লেখা থাক
দ্যাখ কেমন জাগেদ্যাখ কেমন জাগে

মে দিবসের রাতে মহান হয়ে উঠতে যেমত তরঙ্গ বাজিল, ফুলছাপ আয়নায়, কতকথা, রসিকতা সব সেই আকাশেতে মিশে দাদ-হাজা-চুলকানির পূর্ব লক্ষণ মত U/A গানগুলি হরপ্পার ভাঙা মাটির পাত্রে দামী হয়ে উঠছে, বিষক্রিয়ায় কোলাহল বার্ণল , আহা চারটে খেজুর গাছের মত আহা কি দারুন দেখতে, চোখ দুটো টানাটানা, ঝিগাতলা, পিলখানা, খুললে খাপ কেউ পাবিনা তাই কেবল লিখে রাখা, চন্দ্রবিন্দুর গান এখন বাজছে, ধানমন্ডি একটা:ছাব্বিশ

লিখছি আমি, লিখছি অতর্কিতে একটা আকাশ আমি লিখছি পূর্বশর্তে গাছের তলা এখন একটা নেহাত বিছানার চাদর চাঁদ ঘড়ি, নোটের বান্ডিলের মত ইঁটগুলি দেওয়ালে বেরিয়ে, তারা হাসছে রাতের তোড়িতে সেক্সি সেক্সি মুঝে লোক বোলে, আর তোর নাক বোচা, চোখ ট্যাঁরা, তোর ডিভিডি আমার সপ্তডিঙা মধুকর, চান্দসওদাগর সব গল্পের চরিত্র, না তোর হোল না, না পেলাম তোকে, আর আমাকেও তুই পেলি না যা পাখি উড়তে দিলাম তোকে, লে লে লে গুরু মিছরি দানা,(স্ন্যাপশট) কিছু রঙ দিও ( দেবব্রত)গানখানা উইন্ডোজ মিডিয়া প্লেয়ার থেমে গেলে আমি আর লিখব না নাচছে তারা নাচছে, হাসছে আমার বকুলফুল

তোমার বালিশে প্রজাপতি বসে নেই

হৈ চৈ। বৃষ্টি নামল আদর হল দোয়েলের ডানার মত , যা ছিল ফসল চলে গেল সেই সুমনের গানে। তুমি গান গাইলে। ব্রুনো ইন্ডিয়া, চিকিৎসা সংক্রান্ত বিভ্রমে বিয়োজিত তার ফুসফুস নিয়ে। কফিল ভাইএর আ্যলবাম সেই ঝুলে রইল, ঋষিকেশ-হরিদ্বারের মত।

শুয়ে পড়ার আগে বইগুলো সরে সরে গেল দিকভ্রান্ত এক বিছানার চাদরের ওভারটেকে সোরগোল, কাঁচা আমের মত রঙে কাটারিভোগ ভাত, ঘুম আসে সে কচি ধানক্ষেতের মত আরামে, এইবার যশোরে ধান হয়েছে অনেকদিন পর। খ্যাক খ্যাক লড়াই চলেছে কত আর গান গাওয়া, যেন ওয়াটারে কালার ছড়াচ্ছে, সেই ঝড়-বৃষ্টি ও পরেশ মাইতি। লেখার এই পর্যন্ত বারান্দা উড়তে উড়তে চলেছে নাচতে নাচতে পাশপোর্টের বোতল, ডাকুক তাকে ডাকতে থাক, বাতাস তাকে খোঁজে এমন নীল রঙ, কে মিস করবে?

বালিশের কভার, নীল রঙ, হালকা সবুজ বাটি ছিটে, প্রজাপতি প্রজাপতি। আমার যে ঘুম কথায় গেল? আলো জ্বালাই, সে ঘেমে উঠছে। আয়নার কাঁচে শুধু নীল, তিক্ত মরিচিকা এক, শুধু নীল রঙ। কোন প্রজাপতি বসে নেই।

সেই সিরাপ খেয়ে জিরাফ হল বেগুনি আতাগাছ

পাতা নং-০৬

ধর্ম পুড়তে পুড়তে বেগুনি হয়ে যাচ্ছ যাচ্ছেতাই, আর মরে যাওয়া সিগন্যালের মত এক বিষন্ন বিস্তারিত আতাগাছের তলায় পুলিশেরা টাকা কেড়ে নিয়ে ডাইলের বোতল দেয়। সবাই খুশি তাই নদী হয় কেউ, রাত বাড়লে ঢেউ।
জিরাফজিরাফ
পাতা নং-৫৮

আমি পায়ে টের পাচ্ছি অদৃশ্য ঘুঙুরের, আমার মুখময় রঙ। আমার যেন আতাগাছ হওয়ার কথা ছিল আজ রাতে। যেভাবে পানি সামান্য আলোয় চিকচিক করে ওঠে অপরিচিত শব্দে সুতলি সাপের মত, আমার গলার ভেতর নেমে যাচ্ছিল এক নদী, হৃদয়ের কাছ বরাবর ভাগ হয়ে গেল পদ্মা আর গঙ্গায়।

পাতা নং-১১২

আমি পড়ে রইলাম আতাগাছের নিচে, আসলে তার সাথে আমার অনেক কথাই ছিল। গাছে কোন পাতা নেই একঘেয়ে বেগুনি রঙ ছাড়া, তাই বিনিময় হয় না নিস্তবদ্ধতা ছাড়া অন্যকোন জলবায়ু সমাচার। চুপ করে থাকায় রাত্রি বেড়ে চলে, একটা, দেড়টা, দুটো । এই পর্যন্ত গল্পে জমতে শুরু করেছে কয়েকজন বন্ধুর লাশ, আতাগাছে সুতো দিয়ে বাঁধা কতগুলি ডাইলের বোতল ঝুলছে, একসুতো আলোয় দুলছে। গাছ তো বেগুনি হবেই আমার মত অথবা নিতান্তই বিধর্মী জিরাফ।

লং লেন্সে দুপুরমালা

কারামেন জঁ লুক গোদারমাই ব্লুবেরি নাইটস, ওয়াং কার ওয়াই এক চ্যানেলে শব্দ এল, অন্যটা মা গা রে সা বত্রিশের ঐ মাথায় ফরম্যালিন মুক্তির পাশ দিয়ে যেতে যেতে দেখলাম আমের হলদে রঙ, অন্তমিলে গাছের পাতার ভেতর আমাদের রবিশঙ্করের মেয়ে সে ট্রাফিক জ্যামে আটকে গেল জুনিয়ার ল্যবরেটরি ইস্কুলের সামনে সেই জন্য ডাবওয়ালা দাম বাড়িয়ে দিল পাঁচটাকা
লাল অলসতালাল অলসতা

কিস্কিন্ধ্যা থেকে ফেরার পথে হলুদ রোদ্দুরকে আম-আম লাগলো কোন একটা বাস সার্ভিস নাম দেখাল রাজশাহী, কি যে হসচ্ছে

ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে হাঁটলাম উনিশ অবধি এদিকে আবার কাদারভাইএর ডিউ হওয়া চাপ আবহনী মাঠ পেরিয়ে উড়ে গেল সুগন্ধ বরাবর ঝিরিঝিরি অশোক গাছ, আর এদিক ওদিক সাদা অ্যাপ্রন পরা মেয়েরা কতগুলো হাসপাতালের বোর্ডের সামনে দিয়ে হেঁটে গেল সারাটা দুপুর

তার আর পর নেই, দুপুর শেষ হল কাঁচের ওপাশে, আর সেই আমগাছ যেটুকু নকশা দিতে পেরেছিল সব সমেত ঢুকে গেল বিচ সঙে ক্যারাবিয়ান, হুলা লা লা হু লে ও ফেসবুকে তখন দুপুর চলছে আমগন্ধহীণ নো ভন ভন, মাছি-টাছি বাগানের দিকে তাকাতেই দেখলাম সার সার রোদের কবর

দুইদিন বাদে গরম উর্ধগামী ঠেলার সাথে মাটিতেও বিছানো তরমুজ, ৮০/১০০, চার পাঁচটা ইন্ডিয়ান সবুজ বা ভিরিডিয়ান কাজ না থাকলে মানুষের যা হয়, কিছুটা ধানমন্ডি ঘুরলাম রিক্সায়, জ্যামে জ্যামে তথৈবচ বাকিটা তাই লম্বা সেই শার্সির ওপাশ থেকে, বিদায় ও শয়িত কবরের মত আরামে ভাবটা, খুব স্মার্ট হয়ে যাচ্ছি দিন দিন, কাঁচের ভেতরে যে দেওয়াল আর রাস্তা; তাতে এখন আরো কিছু অ্যাপ্রন পরা মেয়ে, তাদের কিন্তু ডাক্তারই মনে হচ্ছে

গরুগুলির সন্ধানে এবার বাংলাদেশে

দুইপাশে হলুদ বান ডেকেছে, আমরা ছুটে বেড়াচ্ছি; যেভাবে বেঁচেছে গরুগুলি অথবা অনন্ত সময় ধরে ঝরে পড়ছে ইউক্যালিপ্টাসের পাতাগুলি, দিনগুলি, শীতের চাদর বিলম্বিত ধূলার উপর বিস্মৃত শয়নে এবারের বগুড়া যাত্রাটা নেহাতই গরুগুলির জন্য আকবরিয়া গ্র্যান্ডে ট্যাংরা, বাতাসি, ইলিশ মস্ত কাতল, রুই আমরা খাইতেই থাকিব, নাজের নতুন বারটি নোটন নোটন করে ডাকিতেই থাকিবে

ভোরের যমুনায় প্রায় মুহ্য সেরিয়া কান্দি, খেঁজুর গাছ নেই, ফলে কাহারও বাড়িতে খেঁজুর রস তৈয়ার হয় না যমুনায় দু-একটি বক ও নৌকা চরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতিসে লাল শাড়িতে কেউ কুয়াশায় হারিয়ে যাওয়ার আগে দেখে নিচ্ছে সেরিয়া কান্দির ফেলে যাওয়া শিশিরস্তব্ধ কেটে রাখা ধানগাছ, লাউশাকের বাড়ি, ছালায় ঢাকা গরুগুলিকে

আবার ফেরার পথে টাঙাইল মির্জাপুরে কালিদাসের দোকানে দই আর সন্দেশ, আবার ফেরার পথে দুই পাশে হলুদ নদী, হলুদ রোদ্দুরে গরুগুলি সাঁতার কাটছে ফোঁটায় ফোঁটায় দুধ অশ্রুর মত জেগে আর গরুগুলি হেনরিয়েটার সরূপ ঘাস খেতে খেতে খেতে খেতে একপেশে বাল্য রচনার মত প্রেরণা হয়ে উঠছে

Sunday, February 08, 2009

রোমকূপে অবসরে তীব্র দহনজ্বালা, পালা বন্ধু পালা

সেও এক ফের। ব্যাংককে বিমানবন্দরেই যা সব ডলার পকেটে ছিল, বুঝলাম সব শেষ। বিমানবন্দরে ঢোকা বেরোতে কোন আপত্তি নেই, পিলপিলে লোকের মেলা, আমিও এ সিঁড়ি সে সিঁড়ি করি, আর ভুরভুরে খাওয়ারের গন্ধে এমুপরীর কথা মনে পড়ে খুব। ঈদ আসছে, চাঁদ ঝিলিক মারলেই হল, খাওয়ার গন্ধ সব ঢেকে রোশনাই জ্বালিয়ে ফেলবে।

আইকম-বাইকম স্টাইলে পায়ের ওপরে পা রেখে সব ফ্লাই ওভার। আর হারিয়ে যাওয়া রুমালের মত কিছুটা জুড়ে বনসৃজন। রং এর কনট্রাস্ট, মন্দ কি? বৌদ্ধ ভিক্ষু ক্যাটক্যাটে গেরুয়ায় সবুজ চেলপার্কের এক ঝোলা নিয়ে ট্রাফিক এমন থামালেন ঠিক যেন এখুনি রেলগাড়ি হয়ে যান।

পোহালো নবমী নিশি

ইস্নিপ্স খুলে গান শুনি। গিরিরানী , রানী এই নাও তুমার উমারে, ধর ধর হরের জীবনধন, অমর পালকে দেখতে পাই, সে এক কচি ধানের ক্ষেত, টকটকে একটা আইসক্রিমের মত সূর্য, রানী এই নাও তোমার উমারে। হারবার্টের কাথা, সিনেমাটার কথা মনে হয়। সারেংগী শুনি আমি অহরহ। কাদা খেলা, বাঁকুড়ার কথা মনে পড়ে।

চাঁচোল। এই নাও তোমার গিরিরানী, সামান্য তনয়া সে নয়। এক ট্রাক চলে যায়, ও রাংগা চরনদুটি, নির্গুণে স্বগুণ মায়া।

দেখি, একটা গাছ হয়ে গেল একা। আর সেই কীর্তনের দল তাদের নামাবলীগুলো গাছে ঝুলিয়ে, সেই যে গেছে আর ফেরেনি। আমি উড়ি, খাউসান রোড, কাবাব গন্ধে বোগনভেলিয়া মাংসের পাঁপড়ি, আমার শারদউৎসবে আর পাতবং-এ শিউলি ফুলের মত কতগুলো পা কাঁচের জানালার এচিং হয়ে আসে আর যায়। পুজো আসে, পুজো যায়।

ও গিরি শোন ধরি দুটি পায়,পাহাড় দেখতে পাই, হেলিকপ্টারের মত, আপনি নাচিয়া সে যে ভোলারে নাচায়। ই টিভি বাংলার সেই ঠাকুর দালানের মত কোন অশ্লীল সকালে ডিমের কুসুমেরা মানিকবাবুর হাতের ভেতর চলে আসেন। শারদীয়া কিনলে না কি কিছু? লেখাও হল না, এই বেশ, দড়ি বরাবর খেলনা ট্রেনের চলে যাওয়া। মা গো, এই পা ভিজে যাচ্ছে শরৎ শিশিরে, এই কার্পেট বরাবর গড়িয়ে পড়ছে মায়া। ওগো গিরি শোন ধরি দুটি পায়।

গৌরীরে দিয়ে দিগম্বরে, আনন্দে আছ ঘরে।

মেঘ, সে তো কথা শুনত কতকাল আগে, কমলাকান্তের কথা, কবে তবে বল গিরিরাজ? পাথর, পিচ্ছিল। ওর্কুটে গিয়ে কংসাবতীর ছবিগুলো দেখতে পারো, ছাদের ওপর থেকে দেখতে পারো খলনানগর, ব্যাংকক। আর পাখি তুমি বলে দিও, যখন সূর্য ঢুবে যাবে ভেসে উঠবে সেই বাবুঘাটে, কালকূট, ব্যাসকূট, ব্যাস, ব্যাসার্ধ, অর্কূটে, তুমি পাখি, দেখে নিও ছেঁড়া কাগজের মেঘ আর শুনে নিও গান, পোহালো নবমী নিশি।

Wednesday, July 04, 2007

ওয়ে ওয়ে ওয়াইনওয়ালী


রেড না হোয়াইট?প্রভূত সংকল্প নিয়ে প্লেন উড়ে গেলে, নিকষিত কামিনীভোগ গন্ধটি নিয়ে, সে এক রাত বটে! চারপাশ হয়ে থাকে মধুমেহ নদী।


পা আটকে আসে , ঘুমের মত।সে দুটো ছিল সিগারেটের নাম, কাঁচি-কাহিনীর পর, ছোট বিরতির ছেলেবেলা।


রেড না হোয়াইট?


সে দুটো রঙ মিলে গেলে আরো একটু বড় হয়ে যায় চারপাশ, সে এক স্কুলের ঘন্টা, আর সাইকেলের একরত্তি টিঙ টঙ।


ফুলের পাপড়ি খসে, বারান্দার ছোট্ট টবে নাইন -ও- ক্লক, লাল বা সাদা।


কখনও সেটা দেশান্তরী হয় শহরজুড়ে বা বোতলে বোতলে, কোকাকোলা।


রেড না হোয়াইট?এতক্ষণে বুঝতে পারি তার প্রশ্ন, এই ভরদুপুরে আর অন্য কিই বা কে খেতে আসবে এই গ্রামীণ পানশালায়?

এখন শব্দেরা


এখন শব্দেরা অনেক উঁচু উঁচু দেওয়াল থেকে লাফিয়ে পড়ে বাস ও ট্যাক্সির শব্দ, হর্ণ কেবল হর্ণ একরাশ জোনাকীর মত ছেয়ে যাওয়া মাথার ভিতর রোদ্দুর ঢুকিয়ে দেয় পিচগলা রাস্তা দিয়ে হুঁশ হাশ ছুটে যাচ্ছে বাস, ঘড়ির শব্দ কান পর্যন্ত পৌঁছায় না


এখানে শব্দেরা এমনি এমনি ঘুরে বেড়ায় রাস্তা ছাড়িয়ে আকাশ অব্দি পৌঁছানোর আগে কাকের ডাক হয়ে ছড়িয়ে পড়ে, ঘর, জানালা, সর্বত্র পাখা ঘুরছে, পাশের ঘরে র‌যাদা টানার শব্দ, একটু আগে থেমে যাওয়া গান সব যেন রেসকোর্সের রেলিং হয়ে বেঁচে আছে, বরশা বেঁধানো কলকাতায়


কলকাতা এখন একটা শব্দ নন্দীগ্রাম নন্দীগ্রাম ধ্বনি তোলা কিছু গান মাত্র বেজে যায় খবরের কাগজের পাতা ছেঁড়া গান, কবীর সুমন গান বাঁধেন অক্টোপাসের মত সমস্ত শব্দ এখন রাস্তা ঘাট হয়ে গেছে আমার চেনা নাম, পাল্টে যাওয়া রাস্তা ঘাট জুড়ে ঝকঝকে হাসছে রোদ ও শব্দেরা আমার জানালার ভিতর ও বাইরে নিয়ত ঘর বাড়ি নিয়ে খেলা করে চলেছে এখন কলকাতা

Saturday, September 09, 2006

সবুজ দ্বীপের রাণী



আসলে তোমরা যেটাকে সিগণ্যাল বলে ভাবছ সেটা আসলে কিছুই নয় ঠিক, বাইরে যেরকম ছড়ানো আছে সবুজ, সেই হিমশিতল জলে সেক্সপিয়ারের নারী ধীরে ধীরে ঢুবে যাচ্ছে ৷ আমার করুণা হয় সেই টাইমারের কথা ভেবে, নিকষ কালো অন্ধকারে লাল বাল্ব আর জেগে আছে জীবনানন্দের ছবি ৷ বিড়াল কখনও উঠবার চেষ্টা করে চেয়ার বরবর, কেবল আঁচড়ায়, জনান্তিকে ইঁদুরের কথা মনেও পড়ে না তার ৷

সবুজ সেই ঢেউ ছিল মানচিত্রের সীমানা বরাবর ৷ আমাদের মত ছিল কিছু জাল পেরনো মাছ ৷ দীঘল ঢেউ টানা সমুদ্র ছিল মানুষ বরাবর ৷ ধরি না মাছ ছুঁই পানি করে ছুঁইয়ে যেত, ভেঙে দিত বালির ঘরবাড়ি, কিহু সবুজ এসে ভেঙে দিলই বা, আমার করুণা হয় না ৷ আমার মনে পড়ে না সেই ক্যালেন্ডারের ছবি, রবীন্দ্ররচনাবলীর চতুর্থ খন্ডের মলাট ৷ আসলে কতগুলি ইউক্যালিপ্টাসের এফ টিভি মার্কা পাতা দ্রুত লুকিয়ে ফেলছে তার ক্ষত ৷

সবুজ ছিল তার পোষাক, তরমুজের মত গভীর তার শাড়ি ৷ আঁচল মেলে দিলে ফুটে ওঠে একাডেমি অফ ফাইন আর্টস, ধীরে ধীরে ৷ তার চুল, আমি জানি না কখন কুরুর সিংহাসনের চাইতেও তীব্র হয়ে ওঠে ৷ তার সেই চুল এমন, হাবে ভাবে একটা ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের একটা গাছকে নিয়ে চলে যায় ৷ গাছেরা পড়ে থাকে ড্রামের মত ৷ কিছু আওয়াজ , কিছু নাভি:শ্বাস জড়িয়ে থাকে সবুজ বর্ণের সেই এক শিফন শাড়ি যার নম্বর কেবল জানে সেই ডিজিটাল ডাইরি , যদিও তাতে ব্যাটারির কোন সাড়া নেই ৷

যে ক্রসিংএ এসে দাঁড়াতেন কমলকুমার, আমাদের স্বর্গবাসের প্রথম প্রহরের কথা মনে হয়, বাঁক খাওয়া যন্ত্রে নেওয়া হয় জুতোর মাপ ৷ চল্লিশোর্ধ নতুন গল্পকার বইয়ের তৃতীয় পৃষ্ঠায় ফোন নম্বর দেন এসটিডি কোড সহ ৷ কোন এক মফ:স্বলি বইমেলায় দেখা হয়, শুধু বইয়ের তাকবদল, এমনই বদলায় র ঙ, যে রাতে অনামিকা লেকগার্ডেন্সের বাড়িতে আসে, উষ্ণ রাতে তাকে গড়িয়ার অটোয় তুলে দেওয়ার সময় খেয়াল হয় কালো শালের গভীরের ক্ষত, আসলে আরও কিছু ধোঁয়া ঢেকে দিয়ে যায় সব, সেই গড়িয়ার বাড়ি, ফ্ল্যাটের দরজায় আটকে দেওয়া গ্লু লাগানো প্যাড, বাতাসে শুধু ওড়ে , যেন বাতাসই কেবল জানে উড়ে যেতে ৷ আরও কিছু পালক উড়ে গেল, তার র ঙ খেয়াল করলাম না শুধু মনে রইল উড়ে গেল এই বরাবর ৷

সবুজ অট্র কথা মনে হয়, সি এন জি লেখা, যেন তাতে ধোঁয়া নেই, কোন স্মৃতি নেই ৷ কেবল সবুজ আছে রুলটানা, এমন রাস্তা ; প্রত্যেক শহরেই এখন গড়ে উঠছে ফ্লাইওভার, প্রচন্ড ব্যস্ততায় চলছে কাজ, চলুক তাতে ক্ষতি নেই, যানজট, সবুজ গাছ ঢেকে যাচ্ছে ধুলোয় ৷ হারিয়ে যাচ্ছে কুয়াশায়, দীর্ঘ সবুজ বালি ৷

নয়ডা ৷ ৩৷২৷২০০৪

Sunday, July 02, 2006

বাউল


বাউল শুধু বাউল হয় না ৷ কতই পাখি উড়ে বেড়ায় সহজ জ্যামিতিতে ৷ মাছেদের সেই খেলা আঁকতে পারে ক'জনা ? আকাশে মেঘ উড়ে গেল , হাওয়ায় এমনি করে মাথা দোলালো কচি সবুজ ধানের পাতা, অমন বাউল হতে পারে ক'জনা ?


সুরের খেলায় হার মানে হারমনিয়াম, এমন ওঠাপড়া, সে তো রোদ্দুরেই খেলতে পারে ৷ জানালার পর্দা হঠাত উড়ে যায়, বোরখা সরলেও সরতে পারে কিন্তু শুকনো পাতা ঝরে না ৷ আসলে বহুবছর ঝরে যায় উত্তরার মত শুকনো পাতা টুপটাপ ঝরতে ৷ মরুভূমি থেকে কটা বালুকনা বা সরে হাজার বছরে ৷ শুধু বালি আর বালি ! তোমার ছিল মেঘ , সবুজ, নীল, সব ঘন রঙা শাড়ি ৷ শূণ্য টেবিলের চারদিকে একা বসে থাকা, ঘড়ির কাঁটা ঘোরার মত চারদিকে প্রখর অস্তিত্ত্ব ৷ মেঘে মেঘে খেলা হয়, জলে জলে বেলা ৷ উঠান জুড়ে তারে মেলে দেওয়া কাপড় জামা একসময় শুকিয়ে আসে, পাখি ঘরে ফেরে ঢেউ ফের ওল্টায় ৷ মাটির পরে বালি আসে, বালির পরে মাটি ৷ শাক বারে বারে ধুয়ে বালি নিষ্কশিত করে যতটুকু আনন্দ পাওয়া যায়, আরও হরিদ্রাভ গভীর কিছু , চাই তো বটে কিন্তু কোথায় ?


সেই প্রখর জলের মধ্যে এক দ্বীপ, বড় বড় সবুজ পাতায় ঘেরা, আর কিছু দেখা যায় না সেখানে ৷ তীব্র পাখির আওয়াজ ৷ কত মাছ আলাপ করল না পড়শীর সাথে, ঘুরপাক খেল শুধু, ক্যালেন্ডারের তারিখের মত উল্টে গেল ৷ গোয়ালন্দ ছেড়ে আসা ষ্টিমারের উপর ঘুরে ঘুরে গান গায় সেই পাগল বাউল , যে জানে না এ ষ্টিমার আরিচা ভিন্ন অন্য কোথাও যাবে না, অথচ সেই অন্য ঘাটেই তার সন্ধান ৷ গেলই বা উড়ে কিছু পাখি, মেঘ যেমন তেমন ৷

নয়ডা ৷ উত্তরপ্রদেশ ৩৷২৷২০০৪

খাঁচা


চারপাশে কতগুলো খাঁচা নিয়ে মহিলা বসে আছেন উত্সুকচিত্তে ৷ খাঁচাগুলো থরে থরে সাজানো অনেকটা ঘাসের মতন ৷ চারপাশে এত চিত্কার আকাশ চোখেই পড়ে না ৷

বেশ কিছুদিন আগে সবুজ রঙ করা হয়েছিল খাঁচাগুলোতে, কালান্তে সেটা বোঝা গেলেও খুব বেশি রঙ আর বেঁচে নেই ৷

আসলে বেশিরভাগ খাঁচার ভেতরই টিয়া, খাঁচাগুলো তাতেই কিঞ্চিত সবুজ হয়ে থাকবে ৷ কোথাও মস্ত রুটির ঢাকনার তলায় ফুটফুটে দুটো সাদা ইদুর ৷ কয়েকটা খরগোশ ৷ খরগোশের বাচ্চারা ঠান্ডায় একসাথে চুপটি করে বসে ৷ কাঁপছে, ক্রমাগত উত্তেজনায় যেমন কাঁপে উরু ৷


চারিদিকে থরে থরে সাজানো খাঁচা ৷ আসলে সেগুলো লোহার কিছু তার , সোজা, বাঁকা বা এমনটাই রুলটানা খাতা যেন ; অক্ষরের যেমন নিয়তি তাতে আটকা পড়া, কিংবা সবুজ গাছ কিছুটা নিরাপদ মনে করে এমনি বেষ্টনির আড়ালে ৷ কতগুলো লোহার লাইন, সোজা কিংবা বাঁকা - তা বই তো আর কিছু নয় ৷ খরগোশেরা নিরাপদ মনে করে না, ঠিকমত জানেও না তারা খাঁচার বাইরে আছে না ভিতরে ৷ সেই মহিলাও একরাশ হৈ হট্টগোলের মধ্যে চারপাশের চারপাশের খাঁচার দূর্গ ঝুলিয়ে বসে আছে স্থির ৷এমন মহিলার মুখ স্পষ্ট করে মনে পড়ে না, তার শাড়ির রঙ ও নয় ৷ তবু খাঁচাগুলোর রঙ সবুজ বলে মনে হয় ৷


সেই খরগোশগুলোর কথা মনে পড়ে ৷ কুকুর শিয়ালের তাড়া খেয়ে ছুটেছিল দিকভ্রান্তের মত ৷ জন্গলে এমন প্রাণী কতই তো মরে ৷ এ ওকে না মারলে তো ইশেসিষ্টেমের দোহাই ৷ এই রকম দু'চারটে খরগোশ ব্যস্ত শহরের খাঁচায় ভরে না রাখলে কথামালা পড়া শিশুরা , আমার মত, জানতেও পারতো না খাঁচা জিনিসটা খুব একটা জরুরি নয় ৷ সবাই খাঁচায় থাকতে বেশ ভালো বাসে ৷ খরগোশের চোখে দেখলে একটা খাঁচার মধ্যে এতগুলো মানুষ, ব্যস্ত শহর, মস্ত বাজার, হাঁটা-চলা, হট্টগোল, ভুলে যাওয়া আকাশ ৷ খাঁচার বাইরে গুটিসুটি মারে থরথর করে কাঁপা খরগোশের বাচ্চা ৷ কেবল এবং নিরাপদ ৷


নয়ডা, উত্তরপ্রদেশ ১৷২৷২০০৪

Saturday, June 17, 2006

যা খুশি তাই


December 26, 2005/siliguri

সমুদ্রে যা খুশি ঢেউ উঠুক, আকাশ যা খুশি মেঘে সাজুক, আমার কিচ্ছুটি বলবার যো নেই, যা খুশি তাই, যা খুশি তাই, যা খুশি তাই৷ এই ধোঁয়া, যা খুশি তাই উড়ে গেলি কেন রে? ফুল হতিস নাহয় প্লাষ্টিক, ভেলভেট, জ্যোত্স্না৷ বাল্বের ভেতর হেঁটে যায় সার সার উট, এক বালতি জলে, লাল বালতি, বাল্বগুলো ডুবিয়ে দাও, দেওয়ালে নীল রঙ ও মৌমাছির চাষ, গুড়ো গুড়ো বালি সিলভেস্টার সেলোন ও আফগানিস্তান, ডুবে গেল লাল বালতিতে৷ ফেনা সব প্রজাপতি, আরব সাগর তির, ঝাঁকে ঝাঁকে মৃত্যুবান, রানী দেবে কেক বান পাউরুটি৷


পাখার একশ ব্লেড কুচি কুচি করে কাটে আপেলের এক দশমাংশ, অমিয়ভূষণ ছবি আঁকেন, পিপড়েতে খেয়ে যায় র আম্বার, ছিপ টানলে উঠে আসে জুতো, এখন বেশি টিভি চললে মশার জন্ম হয়৷ বগলে চেপে ধরছ সাঁড়াশি, বলছ ভিনদেশী থার্মোমিটার, আহা তার চাইতে রংচটা গিটার পিকক ব্লু ভাল নেলপলিশ কুমকুম নিয়ণের আলো৷ কুড়িয়ে এনেছ যত কাঁচ, ভাঙা চুড়ি লাল কালো নীল, ময়দা মাখো, র-ংবেরঙের রুটিতে ফুটে ওঠে কাঁচ, এই নাহলে বড়দিন? গার্ডার ইলাষ্টিক টেনে টেনে বাড়াও, গুলে খাও ইয় ংমডিউলাস, পিচের রাস্তা বরাবর ব্লেড দিয়ে টানা টানা দাগ কখন জেব্রা হয়ে ঢুকে গেছে তোমার সুইচবোর্ডে... এক পেন, ব্রম্মতালু, মাটি খোচানো গরুর শি গলছে, জ্বলছে মোমবাতি, উড়ে যায় ড়িদয়-হাড়৷ নাকফুল সাইক্লোন, স্মৃতির সরণিতে বাইসাইকেল চোর, অগন্তি তাকের থমথমে জেলি, মন সব ভুলে গেলি, এলিতেলি, নিশীথে না যাইও ফুলবনে, চুপচাপ, সুইচড অফ৷৷৷


সানলাইট ভিশন, লম্বা মই, বৈরাগী জামা, এরকম তো কুড়িয়েই থাকি, কুড়িয়ে বাড়িয়ে,টেলারি ংশপের ঝাটানো মেঝে, বেলফুল ছাদ টব, রেডিও, খসে পড়া, বাবুইএর বাসা, খাসা পরিপটি সংসার৷ দুধে গোঁফ চমত্কার দুঁদে গোয়েন্দা পরিহার , চিষনহার, রবিবার, শীতল পাটি, খুনসুটি, তুমি কার কে তোমার ...


দরজায় কড়া নড়ে, চৌকো ঘুড়ি দুধের সরে, নিচু স্বরে, বারো চাকা , সাইকেল, থিন অ্যারারুট, ভিজে বুট, গ্যামক্সিন,চার্লি চ্যাপলিন, ঘড়ি সেদ্ধ, গোল্ডরাশ, উল্টোদিক, বি সি সেন, অ্যান্টেনা, দুটো কাক, মুর্গি লড়াই, ঘাসফুল, কানে দুল, ছোট্ট ইদুর, কারিনা কাপুর...


মস্ত এক নারকোল গাছ, লাউডস্পিকার, বক্সি ংরি, ংহি ংপি, ংছটপূজো, গঙ্গার ঘাট, বালাই ষাট, মস্ত বিছানা, উরিব্বাস, জোনাক জ্বলে, কদমতলে, লাল কম্বল ছাড়ো বাস, দীর্ঘ:শ্বাষ, অর্ধ গোলার্ধ, খন্ড চুমু, মতি-কুমু ট্যান ব্যাসার্ধ, হাতের ভিতর, দাড়াস সাপ, বাপ রে বাপ, ফিতেয় টান, ফেলল ছুড়ে, খাটের পরে, যেমন তেমন, উটের পিঠে, বৃহষ্পতি চলে, রঙ্গে রঙ্গে, আমার বঙ্গে, হে গঙ্গে, ধরাধামে, ধরিতে চাও, জামার বোতাম এই খুললাম, শরীর গভীর, নীল নদ তীর, ফর্দাফাঁই , ফ্যাত্ ফ্যাত্, সাই সাই ...


সব গুবলেট, পোচ ওমলেট, কাকের ডিম আমার মাথায়, সখী কয় ...
জানিনা৷
জানিনা৷
জানিনা৷
জানিনা৷

কি হচ্ছে? চারটের পর কি হচ্ছে?
হুঁ৷
দাড়ি৷
দাড়ি৷
আবার৷ বল?
আগের লাইনটা শেষ হয়নি, ইনকমপ্লিট ...

ঘুষোঘুষি মহীরাবণ, পানে চুন, বটতলা, লিথোপ্রেস, পকিআ, গুপ্তপ্রেস, বেণীমাধব, লোপামুদ্রা, বছর শেষ, বছর নয়,বাংলা বছর, দাউদ খবর, বৌবাজার, জানুয়ারী, ফাটা হাড়ি, নলবন, সেলোফেন, হারিকেন, জ্যান্ত ফসিল, বাংলা ব্যান্ড৷

ঘুমচোখ, সর্বনাশ, চোয়া ঢেকুর ফাটাফাটি, লজ্জ্বাবতী, ঝিচ্যাক, আটা নুডল, দ্রামা দ্রামা, দ্রিমি দ্রিমি, রিমি সেন,ফাজলামি, নারকেল তেল, মা-মেয়ে, চুল টানাটানি, সব জানি, সালতামামি, সেই সুনামি ৷

সুমেরু

রাধার আর বাঁশি শুনে কাজ নাই


December 24, 2005/ siliguri

...সাপ,দীর্ঘ ঘুমের ময়াল সাপ কেন খোলস ছাড়ে, দীর্ঘশ্বাস, খোলস বা খোলনলচে পাল্টে আপাতত পিচের রাস্তা, আরে যত রামকুমারের ল্যান্ডস্কেপ দেখি, সুনসান, রাস্তাতেও অলক্লিয়ার৷ হ্যাঁ সব রাস্তাই এখন স্মৃতি৷ স্মৃতিমানকালে সাজিয়ে দেওয়া মার্কাগুলি, হঠাত্ জমে ওঠা দেশলাই খোলগুলি, জাহাজ পুকুর বা দুধেল গাই, আমি যে রিক্সাওয়ালা গো৷

স্মৃতি তাই পাহাড়, দুরে সাজানো সন্দেশ, থরথর, মরুভুমি আলোকপ্রাপ্ত হয় তপ্ত হয় এমন উদ্ভাসিত স্মৃতি পরজন্মের জন্যেও তোলা নেই কোষাগারে, কূবের সন্ত্রস্ত হন, বিকষিত হেম, হেম ফোঁড়গুলি, পাহাড় সূচিত হয় সুতির চাদরে৷ বিরল মেঘগুলি আনাগোনা করে, পাহাড় কেবলই স্মৃতি, দীপশলাকা অগ্রভাগে চুম্বন করি এসো, ক্ষণ তিষ্টকাল, উড়ে যাক ধবল বক ঐ জেট গতিপথে, মায়াচ্ছন্ন নীল, সাদা ধোঁয়া তুলি টান, খানখান, ছিটানো, অস্থির, চোখগুলি৷


চোখ 2000

... চলচ্চিষন উত্সব চলছে, হেঁটে হেঁটে বেকবাগান অব্দি যাব, স্কাই বাংলার অফিস সুতরা ংযাষনাপথ টানেস্কু প্রবল, সংকোচের ও বিহ্বলতায়, এডিটিং কক্ষের ঠিক বাইরে একাকি শয্যায় শ্রীরাধা৷ তার পেটটা কি ভয়ানক কামড়াচ্ছে, সেরাতে বাড়ি ফিরে যাওয়ার নাকি কোন উপায় নেই৷ উপায় নেই, উপায় নেই৷ এডিটিং ? উপায় নেই , উপায় নেই৷ কি কাজ, এডিটিং রুম, শব্দে শব্দে এ সি, কুমির-ডাঙা, উপায় নেই, উপায় নেই৷ সেই রাতে, উপায় নেই, উপায় নেই৷
বসে থাক, দ্যাখো রে নয়ন মেলে, বস্তুত, উপায় নেই, উপায় নেই৷ মেলতে গেলেই আয়তক্ষেষন, তার নীলরংআ শাড়িটি কেবল আকাশ বলেই ভ্রম হয়, দেহাংশ রাতের তারা বিজ্ঞাপনের মত ডুবে যাচ্ছে লাক্সের বাথটবে, কেননা উপায় নেই৷

চোখ 2003

গ্র্যান্ডের লিফটে৷ দীর্ঘ যাষনাপথ, কেননা থেমে গেছে মাঝপথে৷ হু হু শীত, রেইনি অ্যারোসান মনে করিয়ে দিচ্ছেন আই এস আই এর লাইব্রেরি, মানুষ প্রশ্রয় দিলে মাথায় ওঠে- টাইপের পোস্টার তার মাথা মুখে ছাপানো, শ্রীরাধা তার সম্পুর্ণ শাড়িটাই মধ্যমায় পেঁচিয়ে ফেলবেন যেন৷ সেরাতে গান গাওয়া শেষ হলে পিয়ালী সৌমিকদের সাথে হেঁটে হেঁটে ফিরে যাব বৌবাজারে রাত একটা বা দুটোয়৷ রাতের শয্যা রেডি৷ পায়রার মত আব্দারে, তার তো এক্ষুনি বেরুতে হবে,

না না না৷

পরদিন সকালে ফোন, ফ্লাইট মিস৷ আমি আর এ তল্লাটে নেই৷

চোখ 2005

শুধু চোখ, পর্দা আকাশ জুড়ে শুধু চোখ৷ চোখগুলি বিছানাময় ঘরের দোয়ালে, মুদ্রাস্ফিতি যেন৷ মাঝে মাঝে পাহাড় ভেঙে চুরে যায়, স্ক্রিনসেভার জুড় ফুটে ওঠা চোখ৷ Y2K অথবা ক্রমে সেক্স আসিতেছে, চন্দ্রিল ভট্টাচার্য এক লহমায় অপসৃত করেন কাজলের মুখাবয়ব৷ বিন্দুপাতনে, অস্থিরতায়, টাইট্রেশানে গোলাপী ধীরে ধীরে হয়ে যাচ্ছে সাদা খাতা, রাধার আর বাঁশি শুনে কাজ নাই৷ সিগারেটপুচ্ছেরা জোড়া লাগ, পেখম মেল, ফার-টার হয়ে ওঠ ঐ দুরের পাহাড়ে, এখন তার সাথে কোন কথা নেই৷ শুধু চোখ,না না না, যন্ত্রনা, স্বেদবিন্দুগুলি ভরে ফ্যালো বেলজিয়াম জারে, ডেকোনা তারে, ডেকোনা, বিজি, বিজি, বিজি, ঘটাং ঘট, চালু হল লিফট, সম্পাদনা কক্ষ প্রস্তুত, দুয়ারে প্রস্তুত গাড়ি, ফিরে যেতে হবে, স্মৃতিটির কাছে৷

সুনিদ্রিষ্ট স্মৃতি এইভাবে কি ফিরে পাবে তুমি? আয়তক্ষেষন কিসের সমন্বয়? নীল শাড়ি ও স্ক্রিনসেভার? ক্রমান্বয়ে ডিঙাও পাহাড়, শরশয্যা পেতেছি সমতলে, করতলে আমলকিবত্, লাট্টু ঘোর স্মৃতি, রেডিয়ামে জ্বলে ওঠ দুর্নিবার ঘড়ির কাটা, এই পথে ওতলাবাড়ি, Riতুপর্ণা, চালসা৷ গড়িয়ে দাও জলের বোতলগুলি, মেঘ৷ সারস ও তোমার প্রিয় গাছেরা, পলিথিন প্যাকেটগুলি উড়ে যাক হাওয়া পেলে, মৌনতাই শ্রেয়৷

পুনর্বার জন্ম৷ প্রতি কথা শেষ হয়, পড়ে থাকা ট্রাক, খুলে যাওয়া চাকা, সাজাব যতনে৷ কথা কথা কথা৷ একপাহাড় কথা ছিল, চোখ খোলা? না উচ্চকিত জলাশয়, শাড়ি ভাঁজ গন্ধ ছিল, মিউজিক ফাউন্টেন , ঘাস ছিল চাঁদ ছিল, কথার কাজল, গান ছিল, হর্ণ ছিল বিকেল পাগল, জল আসে বাঁধ দেয়, কতিপয় ঝিল, কথা আসে কথা যায়, নেটওয়ার্ক মুশকিল, সিটি বাজে, টয়ট্রেন নেই কাছে, সকাল টিফিন, পাহাড়ে মেঘ ধর চোখেরা কঠিন৷ ফালি রোদ বিছানায় ছটফটে ঘড়িটায়, কাজ নেই কোন, অলস দুপুর যেন জিহ্বাময় সঙ্গিসাথি কতিপয় কথা নেই কোন...


সুমেরু

চেন্নাইএর চিঠি

... এসেছি এই ঢের, এমন চাটুতে সপসপে হতে-হতে গো-মাংস,চুলে ঢলে পড়া পুস্পবলাকা, হংসিনী পশ্চাৎ

মন্দিরে প্রবল ঘন্টাধ্বনি ,রবি বর্মার ন্যায়, রমনীকূল ওলিওগ্রাফ হয়ে যান, টয় গোছের বাস, জ্যাম দেখলে মনে পড়ে সন্ধ্যা নামছে,রাজনীতির মার-প্যাঁচে প্রসাদ ষ্টুডিওর বাইরে নিয়ত বদলে যাচ্ছে মোমবাতির মত হিরো-হিরো-ইন সমগ্র...

টাল-মাটাল হয় রাত, সকাল মানে জেগে ওঠা , হোটেল লাগোয়া বালিকা বিদ্যালয়, ঘরে ধত্ধতে সাকুরোভের লষঢ়বনক্ষ তশধ ড়ষশ, একটু পরেই কিছু দক্ষিনী চ্যানেলের দেহ বিভঙ্গে গানে ,রাতে রাত মেশে, বীরেশ চ্যাটার্জীর ফিল্ম না দেখে, ফিরে এলে আনন্দই হয় সহসা,ছুটে যাও হলুদ অটো, বিশাল ক্যামেরা bolex চোখের সামনে ভেসে উঠছে animation মত ...

সুমেরু