Sunday, August 15, 2010

গরুগুলির সন্ধানে এবার বাংলাদেশে

দুইপাশে হলুদ বান ডেকেছে, আমরা ছুটে বেড়াচ্ছি; যেভাবে বেঁচেছে গরুগুলি অথবা অনন্ত সময় ধরে ঝরে পড়ছে ইউক্যালিপ্টাসের পাতাগুলি, দিনগুলি, শীতের চাদর বিলম্বিত ধূলার উপর বিস্মৃত শয়নে। এবারের বগুড়া যাত্রাটা নেহাতই গরুগুলির জন্য। আকবরিয়া গ্র্যান্ডে ট্যাংরা, বাতাসি, ইলিশ। মস্ত কাতল, রুই আমরা খাইতেই থাকিব, নাজের নতুন বারটি নোটন নোটন করে ডাকিতেই থাকিবে।

ভোরের যমুনায় প্রায় মুহ্য সেরিয়া কান্দি, খেঁজুর গাছ নেই, ফলে কাহারও বাড়িতে খেঁজুর রস তৈয়ার হয় না। যমুনায় দু-একটি বক ও নৌকা চরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতিসে। লাল শাড়িতে কেউ কুয়াশায় হারিয়ে যাওয়ার আগে দেখে নিচ্ছে সেরিয়া কান্দির ফেলে যাওয়া শিশিরস্তব্ধ কেটে রাখা ধানগাছ, লাউশাকের বাড়ি, ছালায় ঢাকা গরুগুলিকে।

আবার ফেরার পথে টাঙাইল মির্জাপুরে কালিদাসের দোকানে দই আর সন্দেশ, আবার ফেরার পথে দুই পাশে হলুদ নদী, হলুদ রোদ্দুরে গরুগুলি সাঁতার কাটছে। ফোঁটায় ফোঁটায় দুধ অশ্রুর মত জেগে। আর গরুগুলি হেনরিয়েটার সরূপ ঘাস খেতে খেতে খেতে খেতে একপেশে বাল্য রচনার মত প্রেরণা হয়ে উঠছে।

Sunday, February 08, 2009

রোমকূপে অবসরে তীব্র দহনজ্বালা, পালা বন্ধু পালা

সেও এক ফের। ব্যাংককে বিমানবন্দরেই যা সব ডলার পকেটে ছিল, বুঝলাম সব শেষ। বিমানবন্দরে ঢোকা বেরোতে কোন আপত্তি নেই, পিলপিলে লোকের মেলা, আমিও এ সিঁড়ি সে সিঁড়ি করি, আর ভুরভুরে খাওয়ারের গন্ধে এমুপরীর কথা মনে পড়ে খুব। ঈদ আসছে, চাঁদ ঝিলিক মারলেই হল, খাওয়ার গন্ধ সব ঢেকে রোশনাই জ্বালিয়ে ফেলবে।

আইকম-বাইকম স্টাইলে পায়ের ওপরে পা রেখে সব ফ্লাই ওভার। আর হারিয়ে যাওয়া রুমালের মত কিছুটা জুড়ে বনসৃজন। রং এর কনট্রাস্ট, মন্দ কি? বৌদ্ধ ভিক্ষু ক্যাটক্যাটে গেরুয়ায় সবুজ চেলপার্কের এক ঝোলা নিয়ে ট্রাফিক এমন থামালেন ঠিক যেন এখুনি রেলগাড়ি হয়ে যান।

পোহালো নবমী নিশি

ইস্নিপ্স খুলে গান শুনি। গিরিরানী , রানী এই নাও তুমার উমারে, ধর ধর হরের জীবনধন, অমর পালকে দেখতে পাই, সে এক কচি ধানের ক্ষেত, টকটকে একটা আইসক্রিমের মত সূর্য, রানী এই নাও তোমার উমারে। হারবার্টের কাথা, সিনেমাটার কথা মনে হয়। সারেংগী শুনি আমি অহরহ। কাদা খেলা, বাঁকুড়ার কথা মনে পড়ে।

চাঁচোল। এই নাও তোমার গিরিরানী, সামান্য তনয়া সে নয়। এক ট্রাক চলে যায়, ও রাংগা চরনদুটি, নির্গুণে স্বগুণ মায়া।

দেখি, একটা গাছ হয়ে গেল একা। আর সেই কীর্তনের দল তাদের নামাবলীগুলো গাছে ঝুলিয়ে, সেই যে গেছে আর ফেরেনি। আমি উড়ি, খাউসান রোড, কাবাব গন্ধে বোগনভেলিয়া মাংসের পাঁপড়ি, আমার শারদউৎসবে আর পাতবং-এ শিউলি ফুলের মত কতগুলো পা কাঁচের জানালার এচিং হয়ে আসে আর যায়। পুজো আসে, পুজো যায়।

ও গিরি শোন ধরি দুটি পায়,পাহাড় দেখতে পাই, হেলিকপ্টারের মত, আপনি নাচিয়া সে যে ভোলারে নাচায়। ই টিভি বাংলার সেই ঠাকুর দালানের মত কোন অশ্লীল সকালে ডিমের কুসুমেরা মানিকবাবুর হাতের ভেতর চলে আসেন। শারদীয়া কিনলে না কি কিছু? লেখাও হল না, এই বেশ, দড়ি বরাবর খেলনা ট্রেনের চলে যাওয়া। মা গো, এই পা ভিজে যাচ্ছে শরৎ শিশিরে, এই কার্পেট বরাবর গড়িয়ে পড়ছে মায়া। ওগো গিরি শোন ধরি দুটি পায়।

গৌরীরে দিয়ে দিগম্বরে, আনন্দে আছ ঘরে।

মেঘ, সে তো কথা শুনত কতকাল আগে, কমলাকান্তের কথা, কবে তবে বল গিরিরাজ? পাথর, পিচ্ছিল। ওর্কুটে গিয়ে কংসাবতীর ছবিগুলো দেখতে পারো, ছাদের ওপর থেকে দেখতে পারো খলনানগর, ব্যাংকক। আর পাখি তুমি বলে দিও, যখন সূর্য ঢুবে যাবে ভেসে উঠবে সেই বাবুঘাটে, কালকূট, ব্যাসকূট, ব্যাস, ব্যাসার্ধ, অর্কূটে, তুমি পাখি, দেখে নিও ছেঁড়া কাগজের মেঘ আর শুনে নিও গান, পোহালো নবমী নিশি।

Wednesday, July 04, 2007

ওয়ে ওয়ে ওয়াইনওয়ালী


রেড না হোয়াইট?প্রভূত সংকল্প নিয়ে প্লেন উড়ে গেলে, নিকষিত কামিনীভোগ গন্ধটি নিয়ে, সে এক রাত বটে! চারপাশ হয়ে থাকে মধুমেহ নদী।


পা আটকে আসে , ঘুমের মত।সে দুটো ছিল সিগারেটের নাম, কাঁচি-কাহিনীর পর, ছোট বিরতির ছেলেবেলা।


রেড না হোয়াইট?


সে দুটো রঙ মিলে গেলে আরো একটু বড় হয়ে যায় চারপাশ, সে এক স্কুলের ঘন্টা, আর সাইকেলের একরত্তি টিঙ টঙ।


ফুলের পাপড়ি খসে, বারান্দার ছোট্ট টবে নাইন -ও- ক্লক, লাল বা সাদা।


কখনও সেটা দেশান্তরী হয় শহরজুড়ে বা বোতলে বোতলে, কোকাকোলা।


রেড না হোয়াইট?এতক্ষণে বুঝতে পারি তার প্রশ্ন, এই ভরদুপুরে আর অন্য কিই বা কে খেতে আসবে এই গ্রামীণ পানশালায়?

এখন শব্দেরা


এখন শব্দেরা অনেক উঁচু উঁচু দেওয়াল থেকে লাফিয়ে পড়ে। বাস ও ট্যাক্সির শব্দ, হর্ণ কেবল হর্ণ একরাশ জোনাকীর মত ছেয়ে যাওয়া মাথার ভিতর রোদ্দুর ঢুকিয়ে দেয়। পিচগলা রাস্তা দিয়ে হুঁশ হাশ ছুটে যাচ্ছে বাস, ঘড়ির শব্দ কান পর্যন্ত পৌঁছায় না।


এখানে শব্দেরা এমনি এমনি ঘুরে বেড়ায়। রাস্তা ছাড়িয়ে আকাশ অব্দি পৌঁছানোর আগে কাকের ডাক হয়ে ছড়িয়ে পড়ে, ঘর, জানালা, সর্বত্র। পাখা ঘুরছে, পাশের ঘরে র‌যাদা টানার শব্দ, একটু আগে থেমে যাওয়া গান সব যেন রেসকোর্সের রেলিং হয়ে বেঁচে আছে, বরশা বেঁধানো কলকাতায়।


কলকাতা এখন একটা শব্দ। নন্দীগ্রাম নন্দীগ্রাম ধ্বনি তোলা কিছু গান মাত্র। বেজে যায় খবরের কাগজের পাতা ছেঁড়া গান, কবীর সুমন গান বাঁধেন। অক্টোপাসের মত সমস্ত শব্দ এখন রাস্তা ঘাট হয়ে গেছে। আমার চেনা নাম, পাল্টে যাওয়া রাস্তা ঘাট জুড়ে ঝকঝকে হাসছে রোদ ও শব্দেরা। আমার জানালার ভিতর ও বাইরে নিয়ত ঘর বাড়ি নিয়ে খেলা করে চলেছে এখন কলকাতা।